সেন্টমার্টিনের ছেঁড়াদ্বীপে পর্যটক নিষিদ্ধ!

0
74

বাংলাদেশের অন্যতম ও একমাত্র একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। সেন্টমার্টিনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ পরিবেশ অধিদফতরের। তাই সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিবেশ অধিদফতরের সেন্টমার্টিন থেকে সাত কিলোমিটার দূরে ছেঁড়াদ্বীপে পর্যটক নিষিদ্ধ হচ্ছে।

পাশাপাশি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) সেন্টমার্টিনে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ১০৬টি আবাসিক হোটেল-মোটেল  সরিয়ে নিতে কর্তৃপক্ষকে নতুন করে চিঠি দেবে পরিবেশ অধিদফতর।

বৃহস্পতিবার বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক সোলায়মান হায়দার।

সোলায়মান হায়দার বলেন, ‘ছেঁড়াদ্বীপ সংরক্ষণে সেখানে কাউকে যেতে দেওয়া হবে না।  মানুষের চাপের কারণে ছেঁড়াদ্বীপের কোরাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেজন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পুরো সেন্টমার্টিন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। সেটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন হবে। তাছাড়া দ্বীপে গড়ে ওঠা সব আবাসিক হোটেল সরিয়ে নিতে নতুন করে দির্দেশনা দেওয়া হবে। সরকারের ঊর্ধ্বতন কৃর্তপক্ষের নির্দেশনা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব আবাসিক হোটেল-মোটেল ভেঙে দেওয়া হবে।’

সম্প্রতি কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন এম ওয়াসিম মকসুদ বলেছিলেন, ‘দ্বীপে দিন দিন কোরাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দ্বীপ বাঁচিয়ে রাখতে, কোরাল বাঁচিয়ে রাখতে হবে। দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবার একযোগে কাজ করতে হবে।’

কক্সবাজারের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির (ইয়েস) প্রধান নির্বাহী এম ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, ‘দ্বীপে সরকার বারবার উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। আমরা এখন কার্যকর দেখতে চাই। শুধু ছেঁড়াদ্বীপ কেন, পুরো সেন্টমার্টিনকে রক্ষায় অতিদ্রুত প্রদক্ষেপ নেওয়া দরকার। না হলে বিশ্বব্যাপী পরিচিত দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ হারিয়ে যাবে।

দ্বীপের বাসিন্দা ছৈয়দ আলম বলেন, প্রতিদিন দ্বীপে হাজারো পর্যটক বেড়াতে আসেন। কিন্তু এসব পর্যটকরা ময়লা-আবর্জনা ফেলছে সৈকতের বালিয়াড়িতে। এছাড়া ছেঁড়াদ্বীপে পর্যটকদের চাপে দিন দিন নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। এভাবে চলতে থাকলে দ্বীপ হারিয়ে যাবে। তাই সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, দ্বীপ রক্ষায় যেন দ্রুত প্রদক্ষেপ নেওয়া হয়।

এদিকে গত বছরের ৭ এপ্রিল থেকে  সেন্টমার্টিন দ্বীপের নিরাপত্তায় বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দ্বীপটিতে তাদের পাশাপাশি আবারও ভারী অস্ত্র নিয়ে টহল দিতে শুরু করেছেন বিজিবির সদস্যরা। ২২ বছর পর অস্থায়ীভাবে দ্বীপটিতে সীমান্ত চৌকি স্থাপনা করা হয়েছে। পরে সেখানে স্থায়ী বর্ডার আউট পোস্টও (বিওপি) তৈরি করা হবে। তবে এর আগে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত সেখানে সীমান্তরক্ষী বাহিনী নিয়োজিত ছিল। এরপর থেকে সেখানে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করে আসছে কোস্টগার্ড, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here