যেভাবে চিনবেন ‘কৃত্রিমভাবে ‘মোটাতাজা’ গরু’ মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

0
319

কৃত্রিমভাবে মোটা করা গরুর মাংস মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এ কারণে এসব পশু কোরবানি দেওয়া উচিত নয়। কোরবানির ঈদে দেশে ৪০-৫০ লাখ গবাদিপশু জবাই করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই গরু। এসব গরুর চাহিদার কথা মাথায় রেখে বহু খামারি গরু মোটাতাজা করেন।

পেশাদার সৎ খামারিরা সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে অর্থাৎ প্রাকৃতিক উপায়ে গরু হৃষ্টপুষ্ট করেন। তবে একশ্রেণির অসাধু খামারি নিষিদ্ধ ওষুধ প্রয়োগ করে গরু মোটাতাজা করেন। তারা স্টেরয়েড গ্রুপের ওষুধ, যেমন- ডেকাসন, ওরাডেক্সন, প্রেডনিসোলন ইত্যাদি সেবন করিয়ে অথবা ডেকাসন, ওরাডেক্সন স্টেরয়েড ইনজেকশন দিয়ে গরুকে মোটাতাজা করেন। এ ছাড়া হরমোন প্রয়োগ (যেমন ট্রেনবোলন, প্রোজেস্টিন, টেস্টোস্টেরন) করেও গরুকে মোটাতাজা করা হয়। তবে বেশিরভাগ সাধারণ গৃহস্থ কোনটি প্রাকৃতিক আর কোনটি কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা হয়েছে, তা বুঝতে পারেন না।

তবে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল করলেই এই পার্থক্য ধরা সম্ভব-

১. তাপমাত্রা: গরুর শরীরে হাত দিয়ে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মনে হলে বুঝতে হবে গরুটি অসুস্থ।
ওপরের এই বিষয়গুলো লক্ষ রাখলে কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করা গরু এড়ানো সম্ভব হবে। স্টেরয়েড দিয়ে মোটাতাজা করা গবাদিপশুর মাংস অত্যন্ত বিপজ্জনক। এ জাতীয় ওষুধ অতিরিক্ত মাত্রায় দিলে গরুর কিডনি ও যকৃৎ অকার্যকর হয়ে যায়। এতে শরীর থেকে পানি বের হতে পারে না। এতে পানি সরাসরি গরুর মাংসে চলে যায়। এতে গরুকে মোটা, তুলতুলে ও নাদুসনুদুস দেখায়।

২. রানের মাংস: ইনজেকশন দেওয়া গরুর রানের মাংস স্বাভাবিক গরুর রানের মাংসের চেয়ে অনেক নরম থাকে।

৩. আঙুলের চাপ : কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করা গরুর গা ‘পানি নামা’ রোগীর শরীরের মতো ফুলে থাকে। এই গরুর গায়ে আঙুল দিয়ে চাপ দিলে ওই স্থানের মাংস দেবে যায় এবং আগের অবস্থায় ফিরে আসতে অনেক সময় লাগে। কিন্তু প্রাকৃতিকভাবে মোটা করা পশুর গায়ে চাপ দিলে মাংস খুব বেশি দেবে যাবে না এবং যতটুকু দেবে যাবে, তা সঙ্গে সঙ্গে আগের অবস্থায় চলে আসবে।

৪. ঘন শ্বাসপ্রশ্বাস: কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করা গরু দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ করে। একটু হাঁটলেই হাঁপায়। খুবই ক্লান্ত দেখায়।

৫. হাড় বেরিয়ে পড়া: যেসব গরুর চেহারা স্বাভাবিক উষ্কখুষ্ক এবং চামড়ার ওপর দিয়ে হাড় বেরিয়ে থাকে, সেগুলো সুস্থ ও প্রাকৃতিকভাবে মোটা করা গরুর লক্ষণ। বেশি চকচক করা গরু বা ছাগলের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি থাকে।

৬. লালা বা ফেনা: যেসব গরুর মুখে কম লালা বা ফেনা থাকে, সেই গরু কেনার চেষ্টা করুন। এগুলো কৃত্রিম উপায়ে মোটা করা পশু নয়।

৭. খুব ক্লান্ত দেখায়: সুস্থ গরু একটু চটপটে থাকে। কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করা গরু শরীরে পানি জমার কারণে নড়াচড়া কম করে।

৮. নাকের ওপরের অংশ ভেজা: সুস্থ গরুর নাকের ওপরের অংশ ভেজা বা বিন্দু বিন্দু ঘাম জমা থাকবে। অন্যদিকে অসুস্থ গরুর নাক থাকবে শুকনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here